:

হালদা নদীতে রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালবাউশসহ ৯ প্রজাতির মা মাছেরা নমুনা ডিম

top-news

দেশের মিঠা পানির মাছের একমাত্র প্রাকৃতিক  প্রজননকেন্দ্র চট্টগ্রামের হালদা নদীতে রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালবাউশসহ ৯ প্রজাতির  মা মাছেরা নমুনা ডিম ছেড়েছে। এই ডিম সংগ্রহে গত  রাত থেকেই নৌকা ও জাল নিয়ে নদীতে অবস্থান নেন জেলেরা।

সব মিলিয়ে হালদা থেকে বিপুল পরিমান ডিম আহরোহনের সম্ভবনা দেখছেন মৎস্য বিশেষজ্ঞরা।

নদীর হাটহাজারীর গড়দোয়ারা ইউনিয়নের নয়াহাট, রাউজানের পশ্চিম গুজরা আজিমের ঘাট ও নাপিতের ঘাট এলাকায় নমুনা ডিম ছাড়ে মা মাছ। ডিম সংগ্রহকারীদের কেউ কেউ ১০০ গ্রাম থেকে ২০০ গ্রাম করে ডিম পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। আবার দুপুরে এক থেকে দেড় কেজি ডিম পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন কয়েকজন জেলে।

মৎস্য অধিদপ্তর জানায়, প্রতিবছর এপ্রিল থেকে জুলাই—এই চার মাস হালদায় কার্প–জাতীয় মাছের প্রজনন মৌসুম। এই মৌসুমের যেদিন বজ্রসহ বৃষ্টির সঙ্গে পাহাড়ি ঢলের পানি নামে, সেদিন ডিম ছাড়ে মা মাছ। প্রজনন মৌসুমে মা মাছের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহের অপেক্ষায় থাকেন ৫০০ থেকে ৭০০ জন ডিম সংগ্রহকারী। তবে গত কয়েক বছর ডিমের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় ডিম সংগ্রহকারীর সংখ্যা কমে এসেছে।

হালদা গবেষকেরা বলছেন, আগামী জুন মাসের অমাবস্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারে পূর্ণ জোয়ারে মা মাছ পুরোদমে ডিম ছাড়তে পারে। আজ পূর্ণ জোয়ারে এবং ভাটায়ও পুরোদমে ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে বলে ধারণা করছে মৎস্য অধিদপ্তর।

হালদার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য এখানে প্রাকৃতিকভাবে রুই, কাতলা, মৃগেলসহ কার্পজাতীয় মাছ ডিম ছাড়ে। এপ্রিল থেকে জুন—অমাবস্যা ও পূর্ণিমার নির্দিষ্ট তিথিতে বজ্রসহ বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও স্রোতের বিশেষ সমন্বয়ে তৈরি হয় অনন্য পরিবেশ। এজন্যই হালদাকে বলা হয় মা মাছের ‘মেটারনিটি ক্লিনিক’। 

সকালে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে সংগ্রহকারীরা  নমুনা ডিম সংগ্রহে নেমে পড়ে। এতে প্রচুর মাছের ডিম পেয়ে  জেলেদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *